ট্রাইকো কম্পোষ্ট ও ট্রাইকো-লিচেট উৎপাদন ও এর ব্যবহার

ট্রাইকোডারমা একটি উপকারী ছত্রাক
April 3, 2018

ট্রাইকো কম্পোষ্ট:
ট্রাইকো কম্পোষ্ট হলো এক ধরনের জৈব সার যার মূল উপাদান ট্রাইকোডার্মা নামক এক ধরনের উপকারী ছত্রাক। বিভিন্ন জৈব উপাদান যথাঃ গোবর, মুুুরগীর বিষ্ঠা, সব্জি উচ্ছিষ্ঠ অংশ, কচুরিপানা, কাঠের গুড়া, ভুট্টার ব্রান, চিটাগুড়, ছাই, নীমপাতা এবং ট্রাইকোডারমা ছত্রাকের অনুবীজ (3 x 10 C. F.U) নির্দিষ্ট অনুপাতে একত্রে মিশিয়ে তা বিশেষ উপায়ে হাউজে জাগ দিয়ে ৪০/৪৫ দিন রেখে পচন প্রক্রিয়ার মাধমে যে কম্পোষ্ট তৈরী করা হয় তাই ট্রাইকো কম্পোষ্ট । কম্পোস্ট সার তৈরীর সময় হাউজ থেকে নির্গত তরল নির্যাসকে ট্রাইকো-লিচেট বলে।

চিত্র :স্বল্প খরচে স্যানিটারি রিং এ ট্রাইকো কম্পোষ্ট উৎপাদন প্রযুক্তি

ট্রাইকো কম্পোষ্ট তৈরীর উপকরণ :
১। ট্রাইকোডারমা ছত্রাকের অনুবীজ (3 x 10 C. F.U) ।
২। গ্যাস মুক্ত তাজা গোবর ।
৩। হাঁস-মুরগীর বিষ্ঠা।
৪। কচুরী পানা / সব্জি উচ্ছিষ্ঠ অংশ ।
৫। কাঠের গুড়া ।
৬। ভুট্টা ভাঙ্গা ।
৭। ছাই ।
৮। চিটাগুড় ।
৯। নীমপাতা
১০। ৩ টি রিং বা কম্পোষ্ট হাউজ ।
১১। চালা দেয়ার জন্য টিন বা খড় ।

ট্রাইকো কম্পোষ্ট তৈরীর পদ্ধতি:
১।উঁচু স্থানে যেখানে সহজে পানি জমবে না এমন সমতল জায়গার উপর ১ ফুট উঁচু  করে মাটি ফেলতে হবে ।
২। মাটিকে ভালভাবে পিটিয়ে শক্ত করে তার উপর পলিথিন বিছিয়ে দিতে হবে। পলিথিনের উপর পর্যায়ক্রমে ৩টা স্যানিটারী রিং বসাতে হবে অথবা ইট দ্বারা পাকা কম্পোষ্ট হাউজ তৈরী করতে হবে ।
৩। ট্রাইকো কম্পোষ্টের বিভিন্ন উপদান সমূহ নিদিষ্ট অনুপাতে মিশ্রিত করে কাদার মতো তৈরী করার পর রিং বা কম্পোষ্ট হাউজে রেখে ভাল ভাবে ঢেকে দিতে হবে।
৪। ২০/২৫দিন পর কম্পোষ্ট হাউজের উপাদান সমূহ ভালভাবে উল্টিয়ে দিতে হবে।
৫। ৪০/৪৫ দিন পর হাউজ থেকে কম্পোষ্ট বাহির করে ছায়াযুক্ত স্থানে শুকাতে হবে।
৬। শুকানোর পর বিশেষ ধরনের চালুনির মাধ্যমে চেলে নিয়ে কম্পোষ্ট সার বস্তায় সংগ্রহ করতে হবে।

ট্রাইকো কম্পোষ্ট সংরক্ষণ ঃ
সংগ্রহকৃত ট্রাইকো কম্পোষ্ট সার ১৫-১৬% আর্দ্রতায় বস্তায় প্যাকেট করে ১ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায় ।

ব্যবহার বিধি ঃ
প্রতি শতাংশ জমিতে ৮-১০ কেজি হারে ট্রাইকো কম্পোষ্ট ব্যবহার করতে হবে। তবে জমির ঊর্বরতা ও ফসলভেদে কম্পোস্ট সার ব্যবহারের মাত্রা কমবেশী হয়। গবেষণালব্ধ ফলাফলে দেখা যায় শতাংশ প্রতি ৮-১০ কেজি পরিমান ট্রাইকো-কম্পোস্ট সার প্রয়োগ করে বহুবিধ সবজি ফসল যেমন পটল, বেগুন, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ডাটা, শসা ইত্যাদিতে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায়। সবজি ছাড়্্্ওা পেয়ারা, বড়ই, পেঁপে, কলা, আম ইত্যাদি ফল চাষেও ট্রাইকো-কম্পোস্ট ব্যবহার করা যায়। ট্রাইকো-কম্পোস্ট প্রয়োগকৃত জমিতে অনুমোদিত রাসায়নিক সারের ২৫% কম প্রয়োগে ফসলের ফলনের কোন পার্থক্য হয় না। ফসল লাগানোর ২০-২৫ দিন পর থেকে ২% ট্রাইকো-লিচেট ১৫ দিন অন্তর স্প্রে করতে হবে ।

ট্রাইকো কম্পোষ্ট ব্যবহারের উপকারিতা:
১। ট্রাইকো কম্পোষ্ট ব্যবহার করলে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায় ।
২। ট্রাইকো কম্পোষ্ট ব্যবহারে উদ্ভিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
৩। বীজ তলায় এটি সবজির চারা মরা রোগ দমন করে ।
৪। মাঠে বিভিন্ন সবজি ফসলে ব্যবহার করে দেখা গেছে এটি শিকড়ের গিট এরং ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া জনিত ঢলে পড়া রোগ রোগ দমন করে।
৫। জমিতে গন্ধক, দস্তা প্রভৃতির ঘাটতি পূরণ করে এবং গাছের বৃদ্ধি কারক হরমোন সরবরাহ করে থাকে।
৬।জমিতে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের আধিক্য জনিত কোন বিষক্রিয়া সৃাষ্ট হলে ট্রাইকো কম্পোষ্ট ঐ বিষক্রিয়া কমাতে সাহায্য করে।
৬। মাটিতে পানি ধারন ক্ষমতা বাড়ায় ।
৭। মাটির গঠন উন্নত করে ।
৮। অধিক ফসল উৎপাদিত হয় ।
৯। উৎপাদিত ফসলের গুণগত মান ভাল হয় ।
১০। মাটির পিএইচ ঠিক রাখে ।
১১। জমিতে হাল-চাষ করতে সহজ হয় ।
১২। খরচ কম ।

Comments are closed.